দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে সুচিকিৎসার দাবিতে বগুড়া জেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুকুল ইসলাম ফারুকের নেতৃত্বে মশাল মিছিল হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর) রাতে বড়গোলা-দত্তবাড়ি এলাকায় এ মিছিল হয়। মিছিলের সময় বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে যোগসাজশ করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ উঠেছে।

এ প্রসঙ্গে জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খাদেমুল ইসলাম খাদেম বলেন, ‘ফারুক বহিষ্কৃত নেতা, তাই ওই মিছিল সম্পর্কে আমরা কোনও মন্তব্য করবো না।’

এদিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের প্রশ্নে নর্দার্ন ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি-২ (নেসকো) এর নির্বাহী প্রকৌশলী ওমর ফারুকের দাবি, ‘ওই এলাকায় কোনও লোডশেডিংয়ের শিডিউল ছিল না। তবে দত্তবাড়ি এলাকায় খুঁটিতে ফিউজ মেরামত করার জন্য স্টাফরা শিববাটি সরবরাহ কেন্দ্র থেকে কিছু সময়ের জন্য বিদ্যুৎ বন্ধ করেছিলেন। ওই সময় কোনও দলের মিছিল হয়ে থাকলে সেটা কাকতালীয় ঘটনা।’

এ ব্যাপারে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার রাত পৌনে ৮টার দিকে শহরের ঝাউতলায় একটি গলির মধ্যে জেলা ও শহর যুবদলের অন্তত ৬০ নেতাকর্মী সমবেত হন। তারা সেখানে বাঁশের মশাল নিয়ে অবস্থান করতে থাকেন। এ সময় হঠাৎ নেসকো-২এর আওতাভুক্ত শহরের বড়গোলা ও দত্তবাড়ি এলাকায় বিদ্যুৎ চলে যায়। তখন বগুড়া

জেলা যুবদলের বহিষ্কৃত সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুকুল ইসলামের নেতৃত্বে ব্যানার নিয়ে মশাল মিছিল বের করা হয়। সেখান থেকে বড়গোলা হয়ে মিছিল দত্তবাড়ির দিকে চলে যায়। মিছিল থেকে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার দাবি জানানো হয়। এছাড়া খালেদা জিয়ার কিছু হলে ঘরে ঘরে আগুন জ্বলবেসহ বিভিন্ন স্লোগান দেয় তারা। মিছিলকারীরা দত্তবাড়িতে মশালগুলো ফেলে চেলোপাড়া ও কাটনারপাড়ার দিকে চলে যান। এর পরপরই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়।

অনেকদিন পর শহরে মশাল মিছিল দেখে পথচারী ও এলাকাবাসীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেকে মন্তব্য করেন, যুবদলের নেতারা বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে মশাল মিছিল করেছেন। বগুড়া জেলা যুবদলের বহিষ্কৃত সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুকুল ইসলাম ফারুককে কল করেও পাওয়া যায়নি।

এদিকে সদর থানার ওসি সেলিম রেজা জানান, সাবেক যুবদল নেতাকর্মীরা হঠাৎ করে কয়েক মিনিটের জন্য মশাল মিছিল বের করেছিলেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি।

By BD News