জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের সুপারিশ করেছে। পরিষদের ৭৬তম বৈঠকের ৪০তম প্লেনারি সভায় এই সুপারিশ গৃহীত হয়।

বুধবার (২৪ নভেম্বর) রাতে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এটিকে ঐতিহাসিক অর্জন এবং বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রার এক মহান মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশই একমাত্র দেশ, যে দেশ জাতিসংঘ নির্ধারিত তিনটি মানদণ্ড পূরণের মাধ্যমে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করেছে। বাংলাদেশের এ অর্জন বিশ্বদরবারে এ দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে এবং আরও অধিকতর উন্নয়নের যাত্রাকে ত্বরান্বিত করবে।

এদিকে এক টুইটা বার্তায় জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমা জানিয়েছেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের ঐতিহাসিন সুপারিশ গৃহীত হয়েছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী (৫০ বছর) ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উদযাপনের ক্ষেত্রে এর চেয়ে দারুণ উপলক্ষ আর কি হতে পারে! জাতির বহুদিনের আশা-আকাঙ্খা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রূপকল্প-২০২১ অবশেষে পূর্ণতা পেলো। জয় বাংলা।

এর আগে চলতি বছরে ২২-২৬ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্কে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) বৈঠকে বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের জন্য চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়েছিল।

এর ৯ মাসের মাথায় সেটি জাতিসংঘে গৃহীত হলো। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালে বাংলাদেশ আর স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় থাকবে না। উন্নয়নশীল দেশের তালিকাভূক্ত হবে। যদিও এটি ২০২৪ সালে লাভ করার কথা ছিল।

কিন্তু করোনার প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ দুই বছর সময় চেয়ে নিয়েছিল। একমাত্র দেশ হিসেবে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের যে ৩টি মানদণ্ডই বাংলাদেশ পূরণ করেছে সেগুলো হলো- মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ এবং অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ভঙ্গুরতা। মূলত এ তিনটি সূচকের ভিত্তিতেই জাতিসংঘ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের বিষয়টি পর্যালোচনা করে থাকে।

By BD News