সৈয়দ বোরহান কবীর: বাংলাদেশের গণমাধ্যমে প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার মতলবাজ দুটি সংবাদপত্র। সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ছাড়া এরা কিছুই করে না। প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম ১৭ মে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে লাঞ্চিত হন। ৬ ঘন্টা তাকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। এই ঘটনার পরদিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ সম্পর্কে যে বক্তব্য রাখেন তা নির্লজ্জ মিথ্যাচার, অশোভন এবং কুৎসিত। এতে ক্ষান্ত হয়নি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ১৯ মে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত এক আপত্তিকর নোংরা সাফাই বিজ্ঞাপন ডেইলি স্টার সহ দেশের শীর্ষ কাগজগুলোতে প্রকাশ করে। ‘বাংলা ইনসাইডার’ একমাত্র গণমাধ্যম দুটি রিপোর্টের মাধ্যমে এর প্রতিবাদ করেছে।

‘রোজিনার চরিত্র হননে কোটি টাকা খরচ করলো ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়’ এবং ‘নির্যাতিত রোজিনা এবং ডেইলি স্টারের বিজ্ঞাপন লালসা’। এই দুটি শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বাংলা ইনসাইডার মনে করে, বিজ্ঞাপনটিতে বিজ্ঞাপন নীতিমালার নূন্যতম রীতি নীতি অনুসরণ করা হয়নি। কোন সংবাদপত্রেরই এটি ছাপা উচিত হয়নি, ডেইলি স্টারের তো নয়ই। ডেইলি স্টারের হাউজে কাজ করে রোজিনা। আমরা মনে করি, সহকর্মীর প্রতি সম্মান দেখিয়েই এটা প্রকাশ থেকে ডেইলি স্টারের বিরত থাকা উচিত ছিলো। আজ ডেইলি স্টার সম্পাদক তার পত্রিকায় এবং প্রথম আলোয় এ নিয়ে কলাম লিখেছেন। মাহফুজ আনাম এবং মতিউর রহমান`রা, যা বলেন তা বিশ্বাস করেন না, যা বিশ্বাস করেন, তা লেখেন না। নিজেদের পরিশুদ্ধ প্রমাণের জন্য এরা নিজেদের অন্যায়কে বৈধতা দিতে সিদ্ধহস্ত। ডেইলি স্টারে লেখার শিরোনাম হলো ‘Health ministry’s add and freedom of press ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞাপন ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা।

হঠাৎ বিজ্ঞাপন নিয়ে সুশীল মাহফুজ আনাম কেন মাতলেন, তা বোঝার জন্য লেখাটির শেষাংশে যেতে হবে। কারণ মাহফুজ আনাম’রা হলেন দুর্বৃত্ত সুশীল। দুর্বৃত্তরা যেমন যেকোন অপকর্মের আগে একটা অজুহাত দাড় করায়। মতিউর রহমান মাহফুজ আনাম’রা তাদের যেকোন দুরভিসন্ধিমূলক মতলবী কাজের জন্য অবলীলায় কিছু একটা অজুহাত দাঁড় করিয়ে ফেলে। ১৯ মে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নোংরা এবং বিজ্ঞাপন নীতিমালার লংঘন করে বিজ্ঞাপনটি ডেইলি স্টার ছেপে যে অন্যায় করেছে, সেই অন্যায় ঢাকতে আজ এই লেখা। এই লেখার মর্মার্থ এবং মতলব বুঝতে হরে লেখার শেষ অংশ পুনশ্চ যেতে হবে। মাফুজ আনাম লিখেছেন, ‘আমরা কেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞাপন ছেপেছি, এ নিয়ে কিছু প্রশ্ন উঠেছে। এটি প্রকাশ না হলে এমন একটি সেন্সরশীপ তৈরি করা হতো, যা আমরা পুরোপুরি প্রত্যাখান করি। সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিয়ে বেশ কিছু প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। আমরা মনে করি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিভঙ্গি জানার অধিকার জনগণের আছে।’ মাহফুজ আনামের এই পুনশ্চর বক্তব্য পড়ে ভাবছি, এ বছরের সেরা কৌতুকের পুরুস্কার কাকে দেবো, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেককে না ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামকে?

জাহিদ মালেক বলেছেন রোজিনা নাকি তার কর্মকর্তাকে খামচি দিয়েছে। আর মাহফুজ আনাম গর্হিত বিজ্ঞাপনটি ‘প্রকাশ না করা হলে এমন একটি সেন্সরশীপ তৈরি করা হতো।’ বিজ্ঞাপন একটি ব্যবসায়িক বিষয়। টাকা দিয়ে একজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান স্পেস কেনে। এটার সাথে প্রেস সেন্সরশীপের কি সম্পর্ক? মাহফুজ আনামের বক্তব্য অনুযায়ী ডেইলি স্টারে বিজ্ঞাপন প্রকাশে কোন সেন্সরশীপ নেই? তাহলে ডেইলি স্টার বিজ্ঞাপন প্রকাশের শর্ত সম্পর্কিত ধারাগুলো মাহফুজ আনাম নিজেই পড়েন নি। অন্যকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে, অসত্য তথ্য দিয়ে বিজ্ঞাপন কিংবা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন ভবিষ্যতে ডেইলি স্টারে ছাপা যাবে?

জনাব মাহফুজ আনাম, আমি ডেইলি স্টারে একটি বিজ্ঞাপন দেবো, যার শিরোনাম হবে ‘মাহফুজ আনাম ডিজিএফআইয়ের দালালি করেছেন।’ তাতে আপনার ছবি থাকবে, আপনার কথাগুলোই যা আপনি এটিএন নিউজে মুন্নী সাহাকে বলেছিলেন লিখা থাকবে। আপনি ছাপবেনতো?

bangla insider

By BD News