বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ কি “পাক-ভারত যুদ্ধ”??

গতকাল আমার একটা লেখা নিয়ে অনেকেই তর্ক করেছিলেন, নিচের ছবি দু’টা আজকের, দেখে নিন।

যেখানে ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ক্ষমতাসীন বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ জয়ের ৫০ তম বর্ষ উদযাপন করছে। তা লাইভ টেলিকাস্ট করছে সেখানকার টিভিগুলো, খেয়াল করুন তাদের টিভির নিচের লেখা গুলো অথবা বিজেপির ভেরিফাইড ফেসবুক পাতার লেখাগুলো।

এমনকি সয়ং নরেন্দ্র মোদির টুইটারে বাংলাদেশ শব্দটা পর্যন্ত উল্লেখ করেন নি।

১৯৭১ সালে স্বৈরাচারী পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা যুদ্ধকে ভারত সব সময়ই “ভারত পাকিস্তানের যুদ্ধ” বলে অভিহিত করে এবং সেটা স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও! সেটা তাদের সভা সমাবেশেএ যেমন বলেন, নাটক, সিনেমা, বই পুস্তকেও একি ভাবে উল্লেখ করেন। তারা বলেন যুদ্ধক্ষেত্র (ব্যাটল ফিল্ড) কেবল ছিল বাংলাদেশ। যুদ্ধ হয়েছে ভারত পাকিস্তানের সাথে।

আমরা জানি ভারত আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে মিত্র শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। তারা মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং এবং অস্র দিয়েছে, ১ কোটি শরনার্থীদের ৯ মাস আশ্রয় দিয়েছে (যেটা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কোন দেশের অভ্যন্তরে অশান্তি হলে বা পার্শ্ববর্তী দুই দেশের সাথে যুদ্ধ বাঁধলে সীমান্তবর্তী অন্যকোন দেশে সাধারণ মানুষ আশ্রয় চাইলে দিতে হয়)

পৃথিবীর নানান দেশেই এমন যুদ্ধ হয়, সেই সব দেশগুলোতে নিজ স্বার্থের জন্য পার্শ্ববর্তী বা অন্যকোন দুরবর্তী দেশ এসে সহয়তা করে, মিত্র শক্তি হিসেবে সব ধরনের সাপোর্ট দেয়, যুদ্ধ শেষে হেরে হেলে বা জিতে গেলে পৃথিবীর কোন দেশ ভারতের মত এমন ভাবে সেই যুদ্ধকে নিজেদের বলে দাবি করে আমার জানামতে পৃথিবীতে এমন দ্বিতীয় দেশটি খুঁজে পাই না।

ধরুন সিরিয়াতে ইরান আসাদ সরকারের পক্ষে যুদ্ধ করছে সেই দেশের অভ্যন্তরীন মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে, অথবা তুরস্কের বেলাতেও একি অবস্থা। যদি আপনি তুর্কি সাইপ্রাস নামক দেশটির ইতিহাস জানেন তা হলে দেখবেন সেখানে তুরস্ক নিজের সবকিছু দিয়ে সেখানে লড়ে দেশটাকে দুই ভাগ করে আলাদা পতাকা পর্যন্ত তৈরি করে দিয়েছে সেখানেও কিন্তু তাদের অবস্থান ভারতের মত না। অথবা সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া আজারবাইজানের যুদ্ধ জয়ের ইতিহাস এবং প্রেক্ষাপটটাই একটু চিন্তা করুন আমরা কিন্তু সেখানেও তুরস্ককে ভারতের মত অবস্থান নিতে দেখি না।

এর থেকেও যদি আরো অনেক ইতিহাস ঘাটেন সেটা পৃথিবীর নানান দেশের সাথেই স্বাধীনতা যুদ্ধে মিত্র শক্তি হিসেবে অবস্থান নেয়া অন্য কোন দেশকে ঠিক ভারতের মত দেখি না।

ভারত সরাসরি রনাঙ্গনে নেমেছে বাংলাদেশ যখন দেশের সর্বত্র পাকিস্তানিদের নাস্তানাবুদ করে বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে, বিজয়ের মাত্র ১৩ দিন আগে (৩ডিসেম্বর ১৯৭১) ঠিক সেই সময়ে।

অর্থাৎ দেশের সব অঞ্চল থেকে পাক হানাদারদের ঘায়েল করে বিতারিত করে অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি সৈনিকদেরকে ঢাকার মধ্যে নিয়ে এসেছিল, যখন পাকিস্তানীদের আত্মসমর্পণ করা কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র ঠিক সেই সময়েটাতে।

তা হলে সেই যুদ্ধটাকে, সেই বিজয়টাকে, ৩০ লাখ শহীদের সেই আত্মত্যাগকে যারা হাইজ্যাক করে নিতে চায় তাদেরকে এদেশের নতুন প্রজন্ম কি ভাবে মূল্যায়ন করবে??

লেখক : ইলিয়াস মাহুদ নীরব

By BD News