মাত্র তিন আয়াতের ছোট্ট সূরা আসর

[] সূরা আসর []

মাত্র তিন আয়াতের ছোট্ট এই সুরা। এতে আল্লাহ আমাদের সফলতার ফর্মূলা দিয়েছেন। মাত্র চারটি সহজ গুণের এই ফর্মূলা। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন শপথ করে বলছেন, এই চারটি গুণবিশিষ্ট মানুষ দুনিয়া ও আখেরাতের সকল ক্ষতি থেকে মুক্ত। এই চারটি হলো, ঈমান, আমল, দাওয়াত ও সবর।

আসুন জেনে নেই সুরা আসরের সেই ফর্মূলাটি:-

১) وَالْعَصْرِ অল্ ‘আছ্রি
অর্থ্যাৎ ‘কালের শপথ’।
পবিত্র কুরআনে ৪০টি বিষয়ের শপথ করা হয়েছে। তন্মধ্যে ২০টি ভূমন্ডলীয় ও ২০টি নভোমন্ডলীয়। এই চল্লিশটি সৃষ্ট বস্ত্তর শপথের মধ্যে ‘আসর’ অর্থাৎ কালের শপথ হ’ল কুরআনের তারতীব অনুযায়ী সর্বশেষ শপথ।

২) إِنَّ الْإِنْسَانَ لَفِيْ خُسْرٍ ইন্নাল্ ইন্সা-না লাফী খুস্রিন্
অর্থ্যাৎ ‘নিশ্চয়ই সকল মানুষ অবশ্যই ক্ষতির মধ্যে রয়েছে’।
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, ‘হে লোকসকল! জাহান্নাম থেকে বাঁচানোর জন্য আমি তোমাদের কোমর ধরে আকর্ষণকারী। তোমরা জাহান্নাম থেকে আমার দিকে ফিরে এসো! তোমরা জাহান্নাম থেকে আমার দিকে ফিরে এসো! কিন্তু তোমরা আমাকে পরাস্ত করে জাহান্নামে ঢুকে পড়ছ’।[বুখারী হা/৬৪৮৩, মুসলিম হা/২২৮৪]

অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘আমি তোমাদেরকে শত্রুবাহিনী থেকে ভয় প্রদর্শনকারী সতর্ককারীর ন্যায়। অতএব তোমরা জাহান্নাম থেকে বাঁচো! তোমরা জাহান্নাম থেকে বাঁচো’! [বুখারী হা/৬৪৮২, মুসলিম হা/২২৮৩]

কিন্তু এটাই বাস্তব সত্য যে, মানুষ জেনে-বুঝে নিজের ধ্বংসের দিকে ধাবিত হয়। এজন্যই আলোচ্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয় সকল মানুষ অবশ্যই ক্ষতির মধ্যে রয়েছে’।

৩) إِلاَّ الَّذِيْنَ آمَنُوْا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ ইল্লাল্লাযীনা আ-মানূ ওয়া ‘আমিলুছ্ ছোয়া -লিহা-তি অতাওয়া- ছোয়াও বিল্ হাককি অ তাওয়া-ছোয়াওবিছ্ ছোয়াব্র্

অর্থ্যাৎ ‘তারা ব্যতীত, যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম সম্পাদন করেছে এবং পরস্পরকে ‘হক’-এর উপদেশ দিয়েছে ও পরস্পরকে ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে’।

অর্থাৎ ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচতে পারে কেবল চারটি গুণবিশিষ্ট মানুষ। যার মধ্যে প্রথম দু’টি হ’ল ব্যক্তিগত ও পরের দু’টি হ’ল সমাজগত।
প্রথম দু’টির প্রথমটি হ’ল ‘ঈমান’ এবং দ্বিতীয়টি হ’ল ‘আমল’। হৃদয়ে বিশ্বাস, মুখে স্বীকৃতি ও কর্মে বাস্তবায়নের নাম হ’ল ঈমান। আর শরী‘আত অনুমোদিত নেক আমলকেই ‘সৎকর্ম’ বলা হয়। আল্লাহ বলেন, ‘আর যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তাদের কৃতকর্মের পুরস্কার স্বরূপ তাদের আপ্যায়নের জন্য জান্নাত হবে তাদের বাসস্থান’ (সূরা সাজদাহ, ১৯)। ‘যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তারাই হ’ল সৃষ্টির সেরা’। (সূরা বাইয়েনাহ, ৭)।

অন্যদিকে এই আয়াতে বর্ণিত দু’টি সমাজগত গুণের প্রথমটি হ’ল ‘পরস্পরকে হক-এর উপদেশ দেওয়া’। আল্লাহ বলেন, ‘ঐ ব্যক্তির চাইতে উত্তম কথা কার আছে, যে মানুষকে আল্লাহর দিকে আহবান করে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে…’ (সূরা হা-মীম সাজদাহ, ৩৩)।
সমাজগত গুণের দ্বিতীয়টি হ’ল, ‘পরস্পরকে সবরের উপদেশ দেওয়া’। আল্লাহ বলেন, ‘ধৈর্য্যশীল বান্দাদের বেহিসাব পুরস্কার দান করা হবে’ (সূরা যুমার, ১০)।

সবর তিন প্রকার : (ক) বিপদে সবর করা (খ) পাপ থেকে সবর করা অর্থাৎ বিরত থাকা (গ) আল্লাহর আনুগত্যে সবর করা অর্থাৎ দৃঢ় থাকা।

এই সূরায় বর্ণিত চারটি গুণের মধ্যে শেষোক্ত দু’টি গুণ হ’ল মুসলমানের প্রধান বৈশিষ্ট্য। যেটি আল্লাহ অন্যত্র ‘আমর বিল মা‘রূফ ও নাহি আনিল মুনকার’ বলে অভিহিত করেছেন। যেমন আল্লাহ বলেন, ‘তোমরাই শ্রেষ্ঠ জাতি। যাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে এ জন্যে যে, তোমরা মানুষকে ন্যায়ের আদেশ দিবে ও অন্যায়ের নিষেধ করবে এবং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রাখবে’ (সূরা আল ইমরান, ১১০)।

Leave a Reply

Your email address will not be published.