ফিরোজার বৈঠক নিয়ে বিএনপিতে তোলপাড়

ঈদের দিন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন স্থায়ী কমিটির আট সদস্য। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে বিএনপির আট সদস্যের প্রতিনিধিদল প্রায় ঘন্টাখানেক সময় বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছিলেন।

এটি আনুষ্ঠানিক কোনো বৈঠক ছিলো না, ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় ছিলো বলে বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন। কিন্তু ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ে কেন স্থায়ী কমিটির আটজন শুধু গেলেন, এ নিয়ে বিএনপির মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। বিশেষ করে অঙ্গসহযোগী সংগঠনগুলো এটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

ছাত্রদল, যুবদল, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলসহ যে সমস্ত অঙ্গসহযোগী সংগঠনগুলো এই সময়ে বেশি কাজ করছে সেই সংগঠনগুলোকে না নিয়ে শুধুমাত্র স্থায়ী কমিটির আটজন সদস্য যাওয়া নিয়ে বিএনপির মধ্যে এক ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

বিএনপির একজন নেতা বলেছেন যে, যারা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে গিয়েছেন তারা অনেকেই অতসী বৃদ্ধ এবং দলীয় কোনো কর্মকাণ্ডের মধ্যে তাদের ভূমিকা নেই।

তারা খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কি করবেন? এরকম পরিস্থিতিতে যদি অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাদের প্রতিনিধিরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতো তাহলে তারা চাঙ্গা হতো এবং রাজপথে আন্দোলন করার ক্ষেত্রে এটি তাদের জন্য টনিক হিসেবে কাজ করত। ছাত্রদলের নতুন কমিটি সদ্য গঠিত হয়েছে। এই কমিটির একজন প্রতিনিধি বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতে থাকতে পারতেন বিএনপির অনেকে মনে করছেন। তারা বলছেন যে, যদি এই প্রতিনিধি দলে ছাত্রদলের একজন প্রতিনিধি থাকতো তাহলে সারাদেশে ছাত্রদল উজ্জীবিত হতো। একই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন যুবদলের নেতারা।

তারা বলছেন যে, প্রতিবার বৈঠকের সময় অথর্ব, কর্মহীন কিছু নেতারা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন। কিন্তু এর ফলাফল মাঠে আসে না। বেগম খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করলেই কর্মীরা উৎসাহিত হতো এবং এই উৎসাহ আন্দোলনের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতো। কিন্তু বাস্তবে তেমনটি হয়নি। এই বৈঠকের আয়োজন কারা করলো এবং কারা কারা ব্যক্তিদের ঠিক করলো, এটিও এখন বিএনপির মধ্যে একটি বড় প্রশ্ন হিসেবে দেখা দিয়েছ। বিএনপির নেতারা এজন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ওপর ক্ষুব্ধ।

বিএনপির একজন নেতা বলছেন যে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজের ইচ্ছামতো তার পছন্দের ব্যক্তিদেরকেই শুধুমাত্র ফিরোজায় নিয়ে যান। এটির ফলে দলের ওপর কোন ইতিবাচক প্রভাব পড়ে না।

বিএনপির একজন নেতা বলেছেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার দলের কোন কর্মকাণ্ডেই দীর্ঘদিন নাই। তিনি অতসী বয়োবৃদ্ধ, অসুস্থ। তিনি বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত করে কি করবেন? কর্মীরা বলছেন যে, খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত করার পরে তারা কর্মীদেরকে খালেদা জিয়ার বার্তা ছড়িয়ে দিবেন। এর ফলে কর্মীরা উৎসাহী হবেন। কিন্তু এই বৈঠকের ফলে তেমন কিছু ঘটেনি।

আর এটিই বিএনপির ক্ষোভের কারণ বলে জানা গেছে। বিএনপি নেতারা মনে করছেন যে, আন্দোলনের সক্রিয় যে সমস্ত নেতারা আছেন তারা যদি বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন, তাহলে একটা নতুন বার্তা পাওয়া যেত। এমনকি যারা গুম-খুনের শিকার হয়েছেন, কারাগারে যাদের পরিবার আছে তাদের মধ্যে যদি দু’একজন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন তাহলে হয়তো একটা নতুন বার্তা পাওয়া যেত।

তবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে যে, এটি ছিলো স্রেফ সৌজন্য সাক্ষাত। ঈদ উপলক্ষে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তারা দেখা করতে গিয়েছিলেন। আর এটিকে যদি রাজনৈতিক বাতাবরণ দেয়া হতো তাহলে বেগম খালেদা জিয়ার জামিনে যে শর্ত সে শর্ত লঙ্ঘন হত।

উল্লেখ্য যে, সরকারের নির্বাহী আদেশে বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে জামিনে রয়েছেন এবং এই জামিন শর্তসাপেক্ষে জামিন। এর কারণেই বেগম খালেদা জিয়া এখন কোন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না। আর এটিকে যদি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করা হতো তাহলে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য জামিন বাতিলের ঝুঁকি তৈরি হত। এজন্যই এটিকে সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবেই দেখা হয়েছে। এরমধ্যে কোন রাজনৈতিক বার্তা দেয়া হয়নি।

বাংলা ইনসাইডার

Leave a Reply

Your email address will not be published.