পরীক্ষায় পাশ করলেন ৩ মন্ত্রী

ঈদ এলেই তিন মন্ত্রীর পরীক্ষা হয় এবং পরীক্ষায় প্রায় এই তিন মন্ত্রী অকৃতকার্য হন। ঈদের সময়ে সবচেয়ে বড় একটি চ্যালেঞ্জ হয় মানুষের ঈদযাত্রা। বাংলাদেশের মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা হলো শেকড়ের টান। পারিবারিক নিবিড় বন্ধন এবং সম্পর্কের একাত্মতা। এ কারণেই ঈদ এলেই প্রায় কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়ে। কেউ সড়ক পথে, কেউ নৌপথে, কেউ রেলে গ্রামের বাড়িতে ছুটে যায় পরিবার, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে ঈদ করে।

এই ঈদযাত্রাটা প্রায়ই এক দুর্ভোগ এবং ভোগান্তির নাম হয়ে দাঁড়ায়, কিন্তু মানুষ এই দুর্ভোগ এবং ভোগান্তিকে উপেক্ষা করে যেকোনো উপায়ে ঘরে ফিরতে চায়, শেকড়ের কাছে যেতে চায়, মাটির সঙ্গে মিশতে চায়। আর প্রতিবছরই ঈদযাত্রায় নানারকম বিপত্তির খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়, তীব্র যানজটে নাকাল হয় জনগণ, কখনো নৌপথে দেখা দেয় ভয়াবহ বিপর্যয়, আবার রেল সময় মতো চলে না, ৮-৯ ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্ব হয়। প্রতিবার এই ঈদযাত্রার নাম হলো এক বিড়ম্বনা এবং এই বিড়ম্বনার শিকার মানুষ সরকারের সমালোচনা করেন। কিন্তু এবার ঈদযাত্রা হয়েছে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। না সড়কপথে, না নৌপথে, না রেলে, কোথাও ভোগান্তি হয়নি। আর এটি সম্ভব হয়েছে তিন মন্ত্রীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এবং কর্মপরিকল্পনার কারণে।

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবার ঈদের আগে থেকে বলছিলেন যে, এবার ঈদযাত্রায় ভোগান্তি হবে না। বিভিন্ন জায়গায় যে সড়কগুলো সেই সড়কগুলো আগে থেকেই ঠিক করা হয়েছিল, কয়েকটি উড়ালসেতু ঈদের আগে চালু করা হয়। এছাড়া মন্ত্রী নিজে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে তদারকি করেছেন। এরফলে এবার সড়কপথে এখন পর্যন্ত কোন যানজট দেখা যায়নি। মানুষ স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছে।

ঈদযাত্রার আরেকটি বড় যাত্রাপথ হলো রেলপথ। শুরুতেই যখন রেলের টিকিট নিয়ে নানা রকম হুলুস্থুল হচ্ছিল তখন সকালে আশঙ্কা করছিল যে, টিকিট নিয়ে যখন অবস্থা তখন ট্রেনের শিডিউল নিয়ে বোধহয় আরও কি তুঘলকি কাণ্ড ঘটবে। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো যে, টিকেট নিয়ে মানুষের যতই ভোগান্তি হোক না কেন এখন পর্যন্ত ট্রেনে ঈদযাত্রা হচ্ছে স্বস্তিকর, আনন্দদায়ক। কোন শিডিউল বিপর্যয় নেই, স্বাভাবিকভাবেই মানুষের ট্রেনে উঠতে পারছে এবং স্বাভাবিকভাবেই যেতে পারছে।

এটি রেল মন্ত্রণালয়ের একটি বিরাট অর্জন। রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন শুরু থেকেই রেলের শিডিউল নিয়ে কাজ করছেন এবং মানুষের ঈদযাত্রা যেন নিশ্চিত করা যায় সে নিয়ে তিনি বিভিন্ন অধস্তন কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেছেন, সরেজমিনে রেলস্টেশনে গেছেন, যে সমস্ত জায়গায় ত্রুটি-বিচ্যুতি ছিলো সেগুলো সংশোধন করার উদ্যোগ নিয়েছেন। তাকে এই সময় দৃশ্যমান দেখা গেছে। যে কারণে তিনি তাঁর সুফলও পেলেন। মানুষের স্বস্তিদায়ক রেলযাত্রা নিশ্চিত করে তিনি মন্ত্রী হিসেবে একটা ধন্যবাদ পেতেই পারেন।

ঈদের আরেকটি যাত্রাপথ হলো নৌপথ। সড়ক পথের কোনো কোনো যাত্রীকে ফেরি পারাপার হতে হয়। কাজেই নৌ-পরিবহন একটি বড় বিষয়। বিশেষ করে এবার ঈদের আগেই বিভিন্ন ফেরিঘাটে ফেরি সংকটের কথা আলোচিত হচ্ছিল এবং ফেরিতে বিপর্যয়ের কথা শোনা যাচ্ছিল। কিন্তু যখন তখন দেখা গেল যে, আসলে সেরকম কোনো সংকট হচ্ছে না।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় খুব ভালোভাবেই পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পেরেছে। অন্যদিকে, লঞ্চে করে যারা দক্ষিণাঞ্চলে যান তাদেরও এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের বিপর্যয় বা কষ্ট হয়নি। নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী এবার ঈদযাত্রার শুরু থেকেই সক্রিয় ছিলেন। তিনি বিভিন্ন ফেরিঘাটে, লঞ্চঘাটে সরেজমিনে গেছেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে কথাবার্তা বলেছেন। যার ফলে এবার ঈদযাত্রা যেন নির্বিঘ্ন হয় সেটির ব্যাপারে সকলে সজাগ এবং উদ্যোগী ছিল।

এবারের স্বাস্তিদায়ক ঈদযাত্রা প্রমাণ করলো যে, আমাদের মন্ত্রীরা যদি একটু উদ্যোগী হন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যদি সঠিকভাবে নির্দেশনা দেন, তাহলে সহজেই মানুষকে স্বস্তি দেওয়া সম্ভব। ঈদযাত্রায় তিন মন্ত্রণালয়ের অভিজ্ঞতা থেকে অন্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরাও হয়তো শিখবেন, উৎসাহিত হবেন এবং জনগণকে স্বস্তি দিবেন।

বাংলা ইনসাইডার

Leave a Reply

Your email address will not be published.