মন্ত্রিসভায় না দলে থাকবেন তারা?

আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হচ্ছে ঈদের পর পর। আগামী ৭ মে গণভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে দলের কাউন্সিলের তারিখ চূড়ান্ত হতে পারে বলে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানাচ্ছে। এই কাউন্সিলের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ নতুন কমিটি তৈরি করবে। গত কয়েক কয়েকবার কাউন্সিলে আওয়ামী লীগ দল এবং সরকারকে আলাদা করার নীতি গ্রহণ করছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যেমন দলের জন্য মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করেছিলেন।

আবার ১৯৭৪ সালে কাউন্সিলে তিনি দেশ পরিচালনার জন্য প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব এইচ এম কামরুজ্জামানকে দিয়েছিলেন। ঠিক সেই পথেই হাঁটছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি দল এবং সরকার আলাদা করার একটি সুস্পষ্ট কৌশল নিয়ে এগুচ্ছেন যেনো দলের কার্যক্রমে কোনরকম বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়।

আর এ কারণেই বর্তমান মন্ত্রিসভার অনেক সদস্য যারা কেন্দ্রীয় কমিটিতে ছিলেন তারা কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন। এবার কাউন্সিলে তারা আবার যদি কেন্দ্রীয় কমিটিতে আসেন তাহলে হয়তো তাদেরকে মন্ত্রিত্ব ছাড়তে হবে। প্রশ্ন উঠেছে যে, মন্ত্রিসভায় থাকবেন না দলের নেতৃত্ব নেবেন তারা। এরকম কয়েকজন নেতার মধ্যে রয়েছেন,

অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম: অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো নির্বাচন করে ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারির মন্ত্রিসভায় তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। তিনি নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু ২০১৯ সালের কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে তাকে বাদ দেওয়া হয় এবং তিনি এখন শুধুমাত্র মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এবার কাউন্সিলে তিনি মন্ত্রিসভায় থাকবেন, না আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসবেন সেটি একটি বড় প্রশ্ন।

এনামুল হক শামীম: এনামুল হক শামীম গত কাউন্সিলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০১৮ এর নির্বাচনের পর ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি তিনি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং এরপর ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের কাউন্সিলে তাকে মন্ত্রিসভায় রাখা হয় এবং দলের সাংগঠনিক সম্পাদক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তিনি এখন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কেউ নন।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী: খালিদ মাহমুদ চৌধুরীও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন বিগত কাউন্সিলে। ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর তিনি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। একইসাথে দুটি দায়িত্ব এক বছরের কম সময় পালন করার পর ২০১৯ সালের কাউন্সিলে তাকে সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ এবং কেন্দ্রীয় কমিটির পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়।

মহিবুল হাসান চৌধুরী: মহিবুল হাসান চৌধুরী শিক্ষা উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি তিনি মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হন। আর ডিসেম্বরে তাকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক পদ থেকে বাদ দেয়া হয়। এখন সামনে প্রশ্ন, তিনি কেন্দ্রীয় কমিটিতে থাকবেন নাকি মন্ত্রীসভার সদস্য হবেন।

আওয়ামী লীগের হাতেগোনা মাত্র কয়েকজন একাধারে মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে রয়েছেন। এছাড়া বাকি সবাইকেই হয় মন্ত্রিত্ব, না হয় দলের নেতৃত্ব নিতে হচ্ছে। এই চারজন ছিলেন যারা কিছুটা সময়ের জন্য মন্ত্রিত্ব এবং দলের নেতৃত্ব দুটোতেই ছিলেন। এখন তারা শুধুমাত্র মন্ত্রিত্বে আছেন। প্রশ্ন হলো যে তাঁরা কি মন্ত্রিত্বে থাকবেন নাকি দলের নেতৃত্ব নেবেন।

বাংলা ইনসাইডার

Leave a Reply

Your email address will not be published.