ঈদের পর মন্ত্রিসভায় রদবদল হতে যাচ্ছে?

ঈদের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো নানা ইস্যুতে ঈদের পর যে রাজনীতির মাঠ সরগরম করবে এটা সহজেই অনুমান করা যাচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ইস্যুতে জনগণের মধ্যে থেকেও সামাজিক আন্দোলন গড়ে ওঠার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।

বিশেষ করে নজিরবিহীন যানজট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, তেঁতুলতলা মাঠ নিয়ে বিপত্তি ইত্যাদি বিভিন্ন ইস্যুতে প্রতিনিয়তই নানা রকম সামাজিক আন্দোলন বাড়তে পারে। আর এই সবকিছু মিলিয়ে টানা তিন মেয়াদে থাকা আওয়ামী লীগ সরকার তৃতীয় মেয়াদের শেষ অর্ধে এসে কিছুটা হলেও চাপের মুখে পড়বে। আর এই চাপ মোকাবেলার জন্য সরকার কি করবে সেটি এখন একটি বড় প্রশ্ন। অনেকেই মনে করছেন যে এই চাপ মোকাবেলার জন্য হয়তো সরকার অনেকগুলো দৃশ্যমান পরিবর্তন আনবে।

বিশেষ করে মন্ত্রিসভার রদবদল একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে আওয়ামী লীগ হয়তো বিরোধী দল মোকাবেলা এবং নানারকম সামাজিক ইস্যু এবং জনঅসন্তোষ সামলানোর জন্য মন্ত্রিসভায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আনবে এবং এমন কিছু ব্যক্তিকে মন্ত্রী করা হবে যারা রাজনৈতিকভাবে দক্ষ এবং কার্যকর। যারা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক বিবেচনাবোধের ক্ষেত্রে অত্যন্ত দায়িত্বশীল। আর এটির মাধ্যমে সরকার একদিকে যেমন তার চাপ মোকাবিলা করবে অন্যদিকে বিরোধী দলকেও সামলাতে পারবে।

গত ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপুল বিজয় লাভ করে এবং এরপর জানুয়ারি ২০১৯ এর ৭ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করেন। নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করে আওয়ামী লীগ সভাপতি চমক দেখান। তিনি দলের হেভিওয়েট নেতাদেরকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেন। এমন সব আনকোরা ব্যক্তিদের উপর আস্থা রাখেন।

কিন্তু তৃতীয় মেয়াদে মন্ত্রিসভায় অধিকাংশ মন্ত্রী ম্লান এবং ম্রিয়মাণ। তারা আর শেখ হাসিনার আস্থার প্রতিদান দিতে পারেনি। বরং বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে নানারকম ব্যর্থতার অভিযোগে বারবার ঘুরে ফিরে এসেছে। এরকম অবস্থায় সামনে বিরোধীদলের আন্দোলন এবং সরকারের বিভিন্ন চাপ মোকাবেলা করা তাদের পক্ষে কতটুকু সম্ভব হবে এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

আর এ কারণে অনেকেই মনে করছেন যে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে মন্ত্রিসভায় রদবদল করে রাজনৈতিক ব্যক্তিদেরকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার মধ্য দিয়ে সরকার চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশে এই রীতি প্রচলিত আছে।

নরেন্দ্র মোদি করোনা মোকাবেলায় সময়ে ব্যাপকভাবে চাপের মুখে ছিলেন এই চাপ মোকাবেলা করতে গিয়ে তিনি মন্ত্রিসভার ব্যাপক রদবদল করেন। বাংলাদেশে মন্ত্রিসভায় রদবদল নিয়ে বিভিন্ন সময় আলোচনা হয়েছে।

কিন্তু কখনই মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদল হয়নি। এবার কি নির্বাচনের আগে মন্ত্রিসভার বড় ধরনের রদবদল হবে সেটিই এখন দেখার মত প্রশ্ন। উল্লেখ্য যে ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ দ্বিতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে সেই সময় আওয়ামী লীগ হেভিওয়েটদেরকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দিয়েছিল। অপেক্ষাকৃত তরুণদের নিয়ে একটি মন্ত্রিসভা গঠন করেছিল।

কিন্তু ২০১৩ সালে বিএনপি’র আন্দোলন এবং রাজনৈতিক চাপ মোকাবেলার জন্য মন্ত্রিসভায় হেভিওয়েটদেরকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং অন্যান্য দলের সদস্যদেরও নেয়া হয়। এবারও কি রকম ভাবেই একটি বড় ধরনের পরিবর্তন হবে ঈদের পরে সেটি এখন দেখার বিষয়।

বাংলা ইনসাইডার

Leave a Reply

Your email address will not be published.